তাহাজ্জুদ নামাজ কী?
তাহাজ্জুদ নামাজ হলো একটি নফল ইবাদত যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ নামাজ এশার নামাজের পর রাত দ্বিপ্রহরের পরে ঘুম থেকে জেগে আদায় করতে হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই নামাজের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় শুরু হয় এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। তবে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ, রাতকে তিন ভাগে ভাগ করলে শেষ ভাগে এই নামাজ আদায় করা সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। এই সময়ে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বান্দার ডাক শোনেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত
নামাজের জন্য মনে মনে সংকল্প করাই নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে কেউ চাইলে বাংলায় এভাবে নিয়ত করতে পারেন: "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম অন্য সব সাধারণ নফল নামাজের মতোই। নিচে এর ধাপগুলো দেওয়া হলো:
- তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ২ রাকাত পড়তে হয়। সাধারণত ৮ রাকাত পড়া সুন্নাত, তবে ৪, ৬, ১০ বা ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়।
- প্রতি ২ রাকাত পরপর সালাম ফিরাতে হয়।
- নামাজে লম্বা কিরাত ও দীর্ঘ রুকু-সিজদা করা উত্তম।
- সুরা ফাতিহার পর আপনার জানা যেকোনো সুরা বা আয়াত তেলাওয়াত করতে পারেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদ।' এই নামাজের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর সাথে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়। যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করেন, কিয়ামতের দিন তারা বিশেষ সম্মানে ভূষিত হবেন।
উপসংহার
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের অভ্যাস করা আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। যদিও এটি নফল নামাজ, কিন্তু এর প্রতিদান অনেক বেশি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।
You must be logged in to post a comment.