ভূমিকা
ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও কোরআনের বর্ণনায় ইবলিছ বা শয়তান হলো সেই সত্তা, যে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে অভিশপ্ত হয়েছে। সৃষ্টির আদিতে সে জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়েও ইবাদতের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিল। কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অহংকার তাকে চিরস্থায়ী ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
ইবলিছের পতনের ইতিহাস
কোরআনের সূরা আল-বাকারা ও সূরা আল-আরাফ অনুযায়ী, যখন আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন এবং ফেরেশতাদের তাকে সেজদা করার নির্দেশ দিলেন, তখন ইবলিছ সেই নির্দেশ অমান্য করে। তার যুক্তি ছিল, সে আগুনের তৈরি এবং আদম মাটির তৈরি, তাই সে শ্রেষ্ঠ। এই অহংকারই তার পতনের প্রধান কারণ।
শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও মানুষের পরীক্ষা
অভিশপ্ত হওয়ার পর ইবলিছ আল্লাহর কাছ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আয়ু চেয়ে নেয়। তার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা। সে আল্লাহকে বলেছিল, 'আমি মানুষের সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে থেকে তাদের বিপথগামী করব।' (সূরা আরাফ: ১৭)। এটি মূলত মানবজাতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়
- কোরআন তিলাওয়াত ও নিয়মিত জিকির করা।
- আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা এবং 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম' পাঠ করা।
- অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হওয়া।
- সৎসঙ্গ ও ধর্মীয় জ্ঞানের চর্চা বাড়ানো।
উপসংহার
শয়তান কোনো দৃশ্যমান শত্রু নয়, বরং সে মানুষের মনের ভেতরের কুপ্রবৃত্তিকে উসকে দেয়। প্রকৃত মুমিন তিনিই, যিনি ইবলিছের প্ররোচনাকে জয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অবিচল থাকেন।
You must be logged in to post a comment.